17th Oct 2021
756 বার পড়া হয়েছে
ভাঙনে ঘর হারিয়ে গ্রাম ছাড়েন শেফালি আক্তার। বর্তমানে রাজধানীর লক্ষ্মীবাজারে ভাড়া বাসায় তার বসবাস। দুই সন্তানের জন্য ডিজিটাল জন্মসনদ নিতে এসেছেন গোলাপবাগের ঢাকা দক্ষিণ সিটির অঞ্চল-৮ এর অফিসে। সঙ্গে এনেছেন ভাড়া বাসার বিদ্যুৎ বিলের কাগজ। কিন্তু বিলটি বাড়ির মালিকের নামে, যা জমা নিয়ে জন্মসনদ দিতে নারাজ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। ফলে সনদের আবেদনই করতে পারছেন না তিনি। এ নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন শেফালি আক্তার। সন্তানের ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন সনদ পেতে ভোগান্তি নিয়ে ক্ষুব্ধ শেফালি জাগো নিউজকে বলেন, নিজস্ব বাড়ি তো আমার নেই, বিলটা আমার নামে হবে কীভাবে? তারা (কর্মকর্তা) আবেদনও নিচ্ছেন না, সেভাবে কথাও বলছেন না। কাজ-কর্ম ফেলে এতদূরে ক’দিন আসা যায়? খুব সমস্যায় পড়ে গেছি। ‘আগেও সন্তানের জন্মনিবন্ধন করিয়েছি। এখন আবার ডিজিটাল জন্মসনদ লাগবে। বাইরের দোকান থেকে অনলাইনে আবেদন করেছি। বাড়িওয়ালার বিলের কাগজ এনেছি, তাতে কাজ হচ্ছে না। নিজের নামে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ লাগবে। আমার তো তা নেই।’ শুধু শেফালি বেগম নন, ডিজিটাল জন্ম ও মৃত্যুসনদ নিতে পদে পদে এমন ‘ডিজিটাল বিড়ম্বনায়’ পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। অথচ সেবা সহজ করতে অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করে সরকার। উল্টো সেখানেই বেড়েছে জটিলতা। পাশাপাশি জনবলসহ নানান সংকটে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন জোন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০১ সালের পর যাদের জন্ম, তাদের জন্মনিবন্ধনের জন্য বাবা-মায়ের জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করায় সন্তানের জন্মসনদ নিতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে অভিভাবকদের। একই সঙ্গে কারও মৃত্যুসনদ নিতে হলে প্রয়োজন হচ্ছে ডিজিটাল জন্মসনদের। সব মিলিয়ে চরম জটিলতায় পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নাগরিকের ১৮টি সেবা পেতে জন্মনিবন্ধন সনদ এবং চারটি সেবা পেতে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়। ২০০৭ সালে ভোটার তালিকা তৈরির কার্যক্রম শুরু হলেও ২০০১-২০০৬ সালে ২৮টি জেলায় ও চারটি সিটি করপোরেশনে জন্মনিবন্ধনের কাজ শুরু হয়।
আপনার পঠিত আর্টিক্যাল সম্পর্কে মন্তব্য করুন